

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসায় সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তবে এ নির্দেশ দেওয়ার আইনগত ভিত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অধিভুক্তিসংক্রান্ত দায়িত্বের সঙ্গে মাদরাসার প্রশাসনিক ও নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার এক নয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধিভুক্ত ও অধীনে পরিচালিত সব ফাজিল ও কামিল মাদরাসার নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব ও আইনি বিতর্ক
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স, ২০১৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান দায়িত্ব ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদরাসার একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করা। এর মধ্যে রয়েছে অধিভুক্তি দেওয়া, পরিচালনা কমিটি গঠন, পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন।
অন্যদিকে, মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন। ২০১৫ সালে পরিপত্রের মাধ্যমে মাদরাসার নিয়োগসংক্রান্ত সব বিষয়ের দায়িত্ব সরকার মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে অর্পণ করে। ফলে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি এখতিয়ার কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো মাদরাসার পরিচালনা কমিটি বৈধভাবে বহাল থাকলে এবং নিয়োগের অন্যান্য বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ হলে নিয়োগ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। কোনো অনিয়ম থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় তা অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে পারে, কিন্তু সরাসরি নিয়োগ স্থগিত করার সুযোগ তাদের নেই।
এ বিষয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে না জানিয়ে কয়েকটি মাদরাসায় সংসদ সদস্যদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি করার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায় থেকেও নিয়োগে নানা অনিয়মের তথ্য আসছিল। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সিন্ডিকেটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ উল্লেখ করে উপাচার্য দাবি করেন, অধিভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফাজিল ও কামিল মাদরাসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের জন্য আলাদা করে আইন শাখার মতামতের প্রয়োজন নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই আপাতত নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে এটি স্থায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নয়। যথাসময়ে নিয়োগ পুনরায় চালু করা হবে। তবে সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বোর্ডের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
এদিকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান বলেন, “বিষয়টি গতকালই আমরা জেনেছি। মহাপরিচালক আসার পর আলোচনা করে এ বিষয়ে অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা চিঠিতে নিয়োগ বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি বিধানের উল্লেখ না থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে এসব মাদরাসার নিয়োগপ্রক্রিয়া।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।